গ্রামের মানুষও শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবে : প্রধানমন্ত্রী

বাঙলার জাগরণ ডেস্ক : দুর্নীতি করতে নয় বরং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সরকার গঠন করে ক্ষমতায় বসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশ যতো এগিয়ে যাবে, যত উন্নত হবে, তত বেশি সুফল ভোগ করা যাবে। তাই এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে গ্রামেও শহরের সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। গ্রামের মানুষও শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবে। মানুষ যেন গ্রামে বসে সব চাহিদা পূরণ করতে পারে সে লক্ষ্যেই গ্রামকে শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

শনিবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ২২তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কোথায় ছিলাম, কী অবস্থায় ছিলাম, সেটা কেউ জানেও না। এই প্রজন্ম সেসব জানে না। কিন্তু আজ আমরা বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে সারা বিশ্বে শীর্ষদের তালিকায় আছি। মাছ থেকে শুরু করে ধান-সবজি উৎপাদনে বিশ্বের কোথাও তৃতীয়, কোথাও চতুর্থ-পঞ্চম অবস্থান এখনও আমাদের। গত নয় বছরে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে দেশকে এ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো সরকার কোনো দেশে ১২৩ ভাগ বেতন বাড়াতে পারে কিনা আমার জানা নেই। আমরা তা করেছি। অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছি, যার সুফল বাংলাদেশ পাচ্ছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন নোবেল লরিয়েট পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন। কানাডার আদালতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু কোনো দুর্নীতি প্রমাণ হয়নি। আমি তখন বলেছিলাম- আমি দুর্নীতি করতে বসিনি, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে বসেছি। নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলাম এবং আমরা তা করছি।’

এ ছাড়াও ঢাকাকে আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো ঢাকাজুড়ে আমরা সার্কুলার রোড করব, এই সার্কুলার রোড হবে মাটিতে নয় আকাশজুড়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেস হবে। ঢাকা অত্যাধুনিক শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।

তা ছাড়াও দেশজুড়ে টেকনিক্যাল শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন করব। এর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বেলুন এবং পায়রা উড়িয়ে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানায় আইডিইবির তৈরি ‘মি. টিভেট’ নামের একটি রোবট। এ সময় রোবটটির সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘টেকনিক্যাল ভোকেশনাল এডুকেশন ট্রেইনিং’। শনিবার শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তিনদিনের এ অনুষ্ঠানে দুটি আন্তর্জাতিক সেমিনারসহ ১৫টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের সাতটি দেশের অতিথিসহ ছয় হাজারেরও বেশি আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নেন। এছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনোভেশন এক্সপোতে ৫২ বিষয়ে বিভিন্ন আবিষ্কার প্রদর্শন করা হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.