মানিকগঞ্জের ঘিওরে নিখোঁজ ছাত্রীর লাশ ভেসে উঠলো তিন দিন পর

মানিকগঞ্জ থেকে আকাশ চৌধুরী :: মানিকগঞ্জের ঘিওরে কালীগঙ্গা নদীতে ঈদের দিন সকালে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় ছাত্রী আয়শা। নিখোঁজের তিন দিন পর আজ শুক্রবার সকালে সেই ড্রেজারের গর্তের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় তার লাশ।

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া এলাকার আব্দুল মজিদের মেয়ে আয়শা (১৮)। এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় আশুলিয়া সাভারের গুমাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩.১১ জিপিএ পেয়ে পাশ করেছে। দৌলতপুর থানার বাঘুটিয়া যমুনা নদী গর্ভে বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাওয়ার পর ২৫/৩০ বছর যাবৎ আশুলিয়া এলাকায় তাদের স্বপরিবারে বসবাস। ঘিওর উপজেলার তরা এলাকায় ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে আসে ঈদের আগের দিন। ঈদের দিন সকালে নদীতে গোসল করতে গিয়ে ড্রেজারের গভীর গর্তের ঘুরপাকে পড়ে নিখোঁজ হয়। ঘিওর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের লোকজন চারজন ডুবুরী দিয়ে প্রায় সাত ঘন্টা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি লাশ। ঘটনার দ্বিতীয় দিন পেরিয়ে গেলেও লাশের সন্ধান না পেয়ে মা-বাবা স্বজনরা নদীর ঘাটে বসেছিলো লাশ পাওয়ার আশায়। অবশেষে আজ সেই ড্রেজারের গভীর গর্তের পাশে ভেসে উঠে লাশ। এ সময় স্বজনরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে ফুপুর বাড়িতে নিয়ে আসে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন ঘিওর থানার তরা শ্মশান ঘাটে গোসল করতে গিয়ে ড্রেজার মেশিনের করা গভীর গর্তের ঘুরপাকে পড়ে ডুবে যায় মেয়েটি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন নদীর বিভিন্œ জায়গায় খোঁজাখুজি করে উদ্ধার করতে পারেনি লাশ। পরে নদীর ঘাটে অপেক্ষা করতে থাকে তারা।

ঘিওর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ আব্দুস সাত্তার মোল্লা গতকাল (৬ জুন) জানান, প্রায় সাত ঘন্টা ধরে চারজন ডুবুরী লাশ উদ্ধার অভিযান করে লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ড্রেজার মেশিনের গর্তের অসমতল তলদেশে খোঁজাখুজি করা হয়েছে। অসমতল গভীরতার কারনে লাশ খুজে পাওয়ায় বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে ডুবুরীরা জানিয়েছে। তিনি আরও জানান নদীর তলদেশের বিভিন্ন জায়গায় কোথাও পাঁচ ফুট আবার কোথায় ১৫ ফুট গভীরতা। তবে ড্রেজার মেশিনে গভীর করা জায়গায় অন্ততঃ ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীতরা রয়েছে। ড্রেজিং পয়েন্টে পানির ঘুরপাক থাকার কারনে অসমতল জায়গায় লাশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল ৬ জুন বিকালে নদীর ঘাটে ওই ড্রেজার গর্তের পাশে বসে থাকা মা ফিরোজা বেগম(৪৫) সাংবাদিকদের বলেন, ড্রেজারের গভীর গর্তে তার মেয়ে আয়শা(১৮) ডুবে গেছে। ড্রেজারের গভীর গর্তেই তার মেয়ের লাশ পাওয়া যাবে বলে তার বিশ্বাস। কখন যেন মেয়ের লাশ ভেসে উঠবে এই আশায় দুই দিন না খেয়ে বসে আছে নদীর ঘাটে। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন ড্রেজারের গভীর গর্তের ঘুরপাকের পানির দিকে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, নদীতে পানি আসার আগে ঘটনাস্থল তরা শ্মশান ঘাটে দীর্ঘ ৪/৫ মাস ধরে অবৈধভাবে নদীর তলদেশ থেকে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছিলো। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শ্মশান ঘাট ও রমজান আলী স্কুল। এ ড্রেজারের গভীরতার ও ঘুরপাকের কারনেই এমন দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানায়।

এ ব্যাপারে বানিয়াজুরী গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে ড্রেজার মেশিন মালিক মিরনের সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত প্রায় দেড় মাস আগে সেখান থেকে ড্রেজার মেশিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তার ড্রেজার মেশিন ছাড়াও সেখানে আরো কয়েকটি ড্রেজার মেশিন ছিলো। বর্তমানে সেখানে কোন ড্রেজার মেশিন নেই।

অবশেষে ঘটনার তিন দিন পর আজ সকাল ৭টার দিকে সেই ড্রেজার মেশিনের গভীর গর্তের ঘুরপাকের কিছু দূরে ভেসে উঠে লাশ। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহাব নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।