নোবিপ্রবিতে চার বছরে খোলা হয়েছে ৩টি অনুষদ, ১২টি বিভাগ ও ২টি ইন্সটিটিউট

নোয়াখালী প্রতিনিধি : পাল্টে গেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। গেল চার বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। ২০০৬ সালে ৪টি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক ও ১৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় নোবিপ্রবিতে। বর্তমানে ৬টি অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগ ও দুটি ইন্সটিটিউটে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে।

২০১৫ সালের ২ জুন প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান ভিসি হিসেবে যোগদান করে নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছেন।

জানা গেছে, ড. অহিদুজ্জামান ভিসি হিসেবে যোগদানের পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে স্থাপিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। তার মেয়াদকালে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রয় করেছেন সাতটি বাস। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ৩টি সিভিলিয়ান বাস (মিনিবাস) ও ৪টি মাইক্রোবাস এবং ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষের জন্য অত্যাধুনিক গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে। উন্নতমানের অ্যাম্বুলেন্সটিও এই সময়ে কেনা। গেল চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে নতুন ৩টি অনুষদ, ১২টি বিভাগ ও ২টি ইন্সটিটিউট। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীর জন্য ‘বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ অধ্যয়ন’ বিভাগ খোলা হয়।

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক স্পিকার আবদুল মালেক উকিল হলের উদ্বোধন করেন ড. এম অহিদুজ্জামান। এছাড়া সংস্কার করা হয় ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল ও হযরত বিবি খাদিজা হল। বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কাজ নির্মাণাধীন।

এছাড়াও একাডেমিক ভবন-২-এর ৫ম তলা থেকে ১০ম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ একাডেমিক ভবন-৩-এর নির্মাণ কাজ চলমান। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনেরও উদ্বোধন করা হয়। নির্মিত হয়েছে এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম। এছাড়া শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন, হল প্রভোস্ট ও হাউস টিউটরদের থাকার জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট ভবনের তৃতীয় তলার কাজ, ১০ তলাবিশিষ্ট কর্মচারী টাওয়ার, তিন তলাবিশিষ্ট মেডিকেল সেন্টার ও ভিআইপি গেস্টহাউস, দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় মসজিদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য উপাসনালয়ের নির্মাণ কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। গত চার বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধনে চারপাশে বৃক্ষরোপণ ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসে সুপেয় পানি সরবরাহে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে এক হাজার কেভিএ বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, ৩শ’ লাইন বিশিষ্ট টেলিফোন একচেঞ্জ এবং দু’শ এপিএবিএক্স সংযোগ। এছাড়া ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও কার্পেটিং করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের আদলে শিক্ষার মান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নেয়া হয়েছে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও।

ভিসি প্রফেসর ড. অহিদুজ্জামান বলেন, যোগদানের পর থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় যুগপোযোগী সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করেছি। আমি চাই নোবিপ্রবি হবে দক্ষিণ এশিয়ার কেমব্রিজ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জ্ঞানের বাতিঘর।