হত্যার পর খুনিরাই খুঁজছিল মনিরকে

রাজধানীর ডেমরার ডগাইর এলাকার নূরে মদিনা মাদ্রাসার ছাত্র মনির হোসেনকে (৮) তার খুনিরাই স্বজনদের সঙ্গে মিলে খোঁজাখুঁজি করেছিল। এলাকায় মাইকিং করার পরামর্শও দিয়েছিল তারা। অন্যদিকে গোপনে ফোনে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করেছিল তারা। এই টাকা স্থানীয় নূরে আয়েশা মসজিদে খাটিয়ার নিচে রেখে যেতে বলা হয়েছিল।
গত রোববার মনির নিখোঁজ হওয়ার পর এই দাবি অনুযায়ী তার বাবা সেখানে এক লাখ টাকাও রেখেছিলেন। কিন্তু পরদিন সোমবার বিকেলে ওই মসজিদের নির্মাণাধীন তৃতীয় তলার সিঁড়িতে বস্তার ভেতর পাওয়া যায় মনিরের মরদেহ। পরে পুলিশের তদন্তে খুনিদের সব পরিকল্পনাই ফাঁস হয়ে যায়।
ডেমরা থানা পুলিশ বলছে, মনির হত্যায় জড়িত নূরে মদিনা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল হাদী ওরফে হাদিউজ্জামান। তাকে সহযোগিতা করে দুই সিনিয়র ছাত্র মোহাম্মদ তোহা ও আকরাম হোসেন। মনির ওই মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্র ছিল। গতকাল মনিরের বাবা সাইদুল হক এই তিনজনকে আসামি করে ডেমরা থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশের ওয়ারী জোনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, হাদী মসজিদটির ইমামের দায়িত্বও পালন করে। অপহরণের পর শিশুটিকে মসজিদে তার কক্ষেই আটকে রাখা হয়। কান্নাকাটি করায় মুক্তিপণ না নিয়েই তাকে সেখানে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই অধ্যক্ষ আবদুল জলিল হাদীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে তার সহযোগী হিসেবে অপর দুই ছাত্রের কথা জানিয়েছে।

মনিরের বাবা সাইদুল হক বলেন, রোববার সকালে তিনি ছেলেকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসেন। বিকেলে আনতে গেলে সেখান থেকে বলা হয়, ছেলে বাসায় চলে গেছে। এর পর সন্ধ্যায় তার কাছে ফোন করে ছেলেকে অপহরণের কথা জানিয়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে তা মসজিদের খাটিয়ার নিচে রাখতে বলা হয়। অনেক কষ্টে এক লাখ টাকা খাটিয়ার নিচে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই টাকা কেউ নেয়নি। তিনি ছেলের লাশ পেয়েছেন।

ডেমরা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনার পর মনিরের পরিবারের সদস্যরা কয়েক দফা মাদ্রাসা ও মসজিদে যান। বারবার অধ্যক্ষ হাদীর সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার রাতে তারা খবর পাওয়ার পর হাদীকে নজরদারি করেন। এ জন্য খাটিয়ার নিচ থেকে কেউ টাকা নিতে পারেনি। মামলার এজাহারভুক্ত অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।